প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সারাদেশে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কৃষি উৎপাদনে পানি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) চাঁদপুর সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টার পর রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।
চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর আজকের সফরসূচিটি অত্যন্ত ব্যস্ত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাজানো হয়েছে:
কুমিল্লায় পথসভা: সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে একটি সুশৃঙ্খল পথসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন: দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
বিশ্ব খাল পুনঃখনন: দুপুর পৌনে দুইটায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন এলাকায় ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ: দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি।
দলীয় সাংগঠনিক সভা: বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ হবে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই চাঁদপুর সফর এবং নদী-খাল পুনঃখনন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচিগুলো ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও পানি ব্যবস্থাপনার বিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা প্রকাশ করে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও সেচ সংকট (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে চাঁদপুর অঞ্চলটি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের অন্যতম প্রধান নদী বন্দর এবং পাট ব্যবসার কেন্দ্র ছিল। তবে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর অববাহিকায় অবস্থিত হলেও অভ্যন্তরীণ খালগুলোর নাব্যতা সংকটের কারণে শীতকালে চাষাবাদ ব্যাহত হতো। ১৯০০ সালের সেই সনাতন ও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল কৃষি থেকে ২০২৬ সালের এই সুপরিকল্পিত সেচ ব্যবস্থা এক বিশাল রূপান্তর।
জিয়াউর রহমানের খাল খনন বিপ্লব (১৯৭৬-১৯৮১): সত্তরের দশকের শেষভাগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সারা দেশে স্বনির্ভর আন্দোলন ও স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যা ১৯০০ সালের পর এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় জোয়ার এনেছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খোর্দ্দ খাল ও বিশ্ব খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগ মূলত সেই ঐতিহাসিক দর্শনেরই একটি আধুনিক ও ধারাবাহিক রূপ।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর সামাজিক নিরাপত্তা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের এই মে মাসে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য টেকসই খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই তীব্র দারিদ্র্য ও লঙ্গরখানার আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল ডেটাবেজ ভিত্তিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং আধুনিক এক্সকাভেটর দিয়ে খাল পুনঃখননের যুগে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। ২০২৬ সালের তীব্র তাপপ্রবাহ এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে খালের পানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো চাঁদপুরের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
ইতিহাস সাক্ষী, যে সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি ও পানি সম্পদকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক অবহেলা থেকে ২০২৬ সালের স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন—এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় চাঁদপুর সবসময়ই ভূ-অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজকের এই সফর প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের এই নতুন প্রশাসন কেবল নীতি নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মাঠপর্যায়ে কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রান্তিক মানুষের হাত শক্তিশালী করতে সরাসরি কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক বণ্টন ও পুনঃখননকৃত খালগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই এই সফরের দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে।
সূত্র: ১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) কর্তৃক জারিকৃত চাঁদপুর সফরের অফিসিয়াল প্রটোকল ও সময়সূচি (১৬ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি এবং বিংশ শতাব্দীতে চাঁদপুরের কৃষি ও নদী অববাহিকার ইতিহাস (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |